ইসলামী ব্যাংকিং কি, কেন, কিভাবে

এক কথায় ইসলামী ব্যাংকিং হচ্ছে ইসলামী সরিয়াহ্ (জীবন বিধান) অনুযায়ী পরিচালিত ব্যাংক, যার মানে যা ইসলামের পরিপন্থী কোন কাজই করে না। ইসলামি ব্যাংক সুধু ব্যাংক হিসেবেই দায়বদ্ধ নয় এর পরেও তার আরো অনেক দায়বদ্ধতা থাকে এবং এর কার্যক্রমও ট্র্যাডিশনাল ব্যাংক গুলো থেকে আলাদা।

ইসলামী ব্যাংক (গুলো) এর প্রধান উদ্দেশ্য কখনই সুধু লাভ করা নয় এর অনেক ধার্মিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতাও রয়েছেনে, যেহেতু ইসলাম একটি পূর্নাঙ্গো জীবন বিধান অন্য দিকে অর্থনীতিও জীবনে ধারণের অংশ তাই তার জন্যও ইসলামের রয়েছে সু-নির্দিষ্ট নির্দেশনা। ইসলামে সুদ খাওয়া হারাম (Riba in Arabic/ Interest in English) কিন্তু আমাদের প্রচলিত অর্থ ব্যবস্থা সুদকে সমর্থন করে আবার অন্য দিকে ইসলামের দৃষ্টিতে অনেক ব্যবসায় করা বা বিনিয়োগ করাও নিষেধ হয়তো যেখানে ট্র্যাডিশনাল ব্যাংগুলো বিনিয়োগ করে তাই ইসলামিক ব্যাংক ব্যবস্থা এমন এক ব্যাংকিং ব্যবস্থা যা কেন রকমেই ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

ইসলামী ব্যাংকের মূল বৈশিষ্ট:

  1. ইসলামী সরিয়া মোতাবেক পরিচালিত সুদ মুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা : অন্যান্য ব্যাংক  যেখানে সুদের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল, এবং তাদের গ্রাহকদের সাথে বছরে/মাসে/নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শতকরা একটি নির্দিষ্ট সুদ প্রদানে বাধ্য থাকে আন্য দিকে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা কোন ভাবেই সুদরে উপর নির্ভরশীল নয়, তারা তাদের গ্রাহকদের সুদের বদলে লাভ/ক্ষতি অফার করে যেটা কোন ভাবেই পূর্ব নির্দিষ্ট নয়।
  2. ব্যাংকের সাথে পার্টনারে সম্পর্ক তৈরি করা : ট্র্যাডিশনাল ব্যাংকিং সিস্টেমে তাদের কাস্টমের সাথে তাদের সম্পর্ক হয় দেনাদার-পাওনাদারে (Debtor – Creditor) অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায়  এ সম্পর্ক হয় পার্টনারশিপের ধরে নেয়া হয় প্রত্তেক জন গ্রাহক ব্যাংকের ব্যবসায় একেকে জন বিনিয়োগকারী এবং তার আনুপাতিক হারে তাদের লাভ -ক্ষতি উপভোগ করেন।
  3. লাভ – ক্ষতি দুটোই হতে পারে/ বিনিয়োগে ঝুঁকির থাকে: ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ট্র্যাডিশনাল ব্যাংকের মত সবসময় লাভই হবে এমন কোন কথা নেই, কারণ গ্রাহক কোন সুদের জন্য চুক্তিবদ্ধ নয় বরং পার্টনার।
  4. লাভ ভাগাভাগি ও ক্ষতির ঝুঁকির মাধ্যমে দেনা পাওনা/ লাভ নির্ধারিত হয়: লাভ ক্ষতি দুই হতে পারে।
  5. একটি জনকল্যাণ ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যা ন্যায় ও নিরপেক্ষতার উপর প্রতিষ্ঠিত: ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এমন কোন কাজ করবেনা/ এমন কোন ব্যবসায় বিনিয়োগ করবে না যেটা ইসলামের জীবন বিধানের বাইরে। অথবা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে, যেমন মদের ব্যবসা।
  6. লোণ দেয়ার ক্ষেত্রে সর্তকতা অবলম্বন: ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এমন কোন ব্যবসায়/ স্থানে লোণ দেয় না যেটাই ইসলামের পরিপন্থী যেটা সাধারণত ট্র্যাডিশনাল ব্যাংকগুলোর বিবেচ্য বিষয় নয়।
  7. গরিব, দুস্থ অসহায়দের জন্য কাজ করে: ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গরিব, দুস্থ অসহায়দের জন্য কাজ করে। যেমন জাকাত প্রদান ইত্যাদি।
  8. ইসলামী অর্থ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে।

সূত্র: ইন্টারনেট।

Print Friendly, PDF & Email

Law Help Bangladesh

This is a common profile to post random articles form net and other sources, generally we provide original author's information if found, but some times we might miss. Please inform us if we missed any or if you are aggrieved on any post, we will remove or re-post it with your permission.

You may also like...

error: Content is protected !!