ওয়ারিশ সনদ ও এর ব্যবহার

ওয়ারিশ সনদ ও এর ব্যবহার

আমার জানি মুসলিম আইন অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত্যুর সাথে সাথে তার ওয়ারিশ / উত্তরাধিকার গন তার সম্পদ ও সম্পত্তির মালিক হয়ে যান কিন্তু এই বিষয়টি নির্মল ভাবে করতে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হয়। মৃত ব্যক্তি কতজন ওয়ারিশ রেখে গেছেন এবং তার সম্পত্তির কি পরিমাণ / কত অংশ তারা পাবেন ইত্যাদি নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ওয়ারিশ সনদের।

কিভাবে পাবেন?

ওয়ারিশ সনদ সাধারণত: স্থানীয় পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রদত্ত প্রত্যয়ন পত্র । যা একজন মৃত ব্যক্তির আইনি উত্তরাধিকার/ওয়ারিশদের স্বীকৃতি দেয় ।

আবার ওয়ারিশ সনদ দেওয়ানী আদালতের মাধ্যমেও পাওয়া যায়। সাধারণত অর্থ ও অস্থাবর সম্পত্তির দেনা – পাওনা ইত্যাদির সুষ্ঠ হিসাব পাওয়া জন্য ও যাতে করে ভবিষ্যতে কোন ধরনের ঝামেলা না হয় সে জন্য দেওয়ানী আদালতের মাধ্যমে ওয়ারিশ সনদ নেওয়া হয়।

এ সনদের জন্য কি কি লাগবে?

# ওয়ারিশগণের ১ কপি ছবি (সত্যায়িত)
# মৃত্যু সনদ ১ কপি (সত্যায়িত)
# মেয়র.সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান এর তদন্ত প্রতিবেদন
# সংশ্লিষ্ট বাজার চৌধুরী/হেডম্যান এর তদন্ত প্রতিবেদন।

আবেদন ফরমেট


ওয়ারিশান সনদ পাওয়ার আবেদন পত্র

বরাবর,

চেয়ারম্যান সাহেব

আটাবহ ইউনিয়ন পরিষদ

কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

বিষয়ঃ   ওয়ারিশান সনদ পত্র পাওয়ার জন্য আবেদন।

 

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে আমার  পিতাঃ মৃত: সৈয়দ গোলাম মাওলা রেজভী  , পিতাঃ মৃতঃ সৈয়দ হাসান আলী রেজভী সাংঃ রসুলপুর, উপজেলাঃ কালিয়াকৈর, জেলাঃ গাজীপুর।

সে মৃত্যু কালে নিম্ন লিখিত  ওয়ারিশাগনকে রাখিয়া যায়।

ক্রমিক নং ওয়ারিশানদের নাম সম্পর্ক বয়স মন্তব্য
 ১ সৈয়দা ফিরোজা ইয়াসমিন  রেজভী মেয়ে ৫৭
   সৈয়দ শামসুল আরেফিন রেজভী ছেলে ৫৫
সৈয়দা আফরোজা রহমান মেয়ে ৫২
সৈয়দ হাসিব আল হাসান রেজভী ছেলে ৪৭

অতএব,  মহোদয়ের  সমীপে বিনীত প্রার্থনা এই, উল্লেখিত  বিষয়ে আমাকে একটি ওয়ারিশ  সনদ প্রদান করিতে আপনার সু- আজ্ঞা হয়।

 

বিনীত নিবেদক

নামঃ

তারিখঃ                                                        পিতাঃ

গ্রামঃ রসুলপুর

স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে উপরোক্ত বনর্না সত্য  পাওয়া গেল।

সাটির্ফিকেট প্রদান করার জন্য সুপারিশ করা হল।

………… ………… …………

০১ নং ওয়ার্ডের সদস্য


ওয়ারিশ সনদ কেন দরকার?

সনদটি উত্তরাধিকারগণকে তাদের নামে কোন সম্পত্তি হস্তান্তরিত আছে কিনা, বা উত্তরাধিকার যোগ্য কতটুকু সম্পদ আছে তা সত্যায়ন করে থাকে। উত্তরাধিকারী/ সুবিধাভোগীর আবেদনের প্রেক্ষিতে উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সনদটি ইস্যু করা হয়। ওয়ারিশ সনদ কার্যকরী, কিন্তু সব সময় এর বলে মৃতের সম্পদে উত্তরাধিকার নাও পাওয়া যেতে পারে। সাথে প্রয়োজন, একটি মৃত্যু সনদ এবং অনাপত্তি সনদ। যে আদালতের এখতিয়ারে সম্পত্তি রয়েছে, সেখানে আবেদন জারি করতে হয়। ওয়ারিশ সনদের
নিয়ম-কানুন উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ (The Succession Act, 1925) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

Rayhanul Islam

The author is an original thinker; often challenges the regular rule of conduct considering various perspective on the basis of scientific reasoning to ensure the peace and prosperity of the society. He works as freelancer advocate and promote legal knowledge and human right concept to the root level. The author is also a tech enthusiast and web developer, he loves psychology as well.

You may also like...

  • rajib dewan

    কোন ব্যাক্তি তাহার বাবা জিবিত থাকালীন সময় তাহাকে অশ্বিকার করে তাহার সকল শিক্ষাগত ও বিয়ের কাবিন নামা পর্যন্ত তাহার পিতার নাম বাদ ‍দিয়ে অন্য ব্যক্তি পিতা নাম দিয়ে থাকলে সে তাহার প্রকৃত পিতার ওয়ারিশ হবে কি তাহার বাবার মৃত্যুর পর ? জানালে উপকৃত হবো।

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: