অগ্রক্রয় সংক্রান্ত আইনের বিধানাবলী

অগ্রক্রয় বা প্রি-এমশন শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো, অন্যদের চেয়ে একজনের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্রয় করার অধিকার । মুসলিম আইনে অগ্রক্রয়কে সাফা বলে ।
কোন স্থাবর সম্পত্তির মালিক, অপর কোন স্থাবর সম্পত্তির মালিক কর্তৃক বিক্রিত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করার অধিকারকে অগ্রক্রয়াধিকার বলে ।
উদাহরণস্বরূপঃ ‘ক’ ও ‘খ’ নামক দুইজন ব্যক্তি এবং যাদের মধ্যকার সম্পর্ক হল ভাই । ‘ক’ যখন তার স্থাবর সম্পত্তি ‘গ’ নামক অপর ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করে তখন ‘খ’ এর, ঐ বিক্রিত সম্পত্তি ক্রয় করার অধিকারকে অগ্রক্রয়াধিকার বলে ।


কারা অগ্রক্রয়ের আবেদন করতে পারেনঃ
মুসলিম আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত তিন শ্রেণীর ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের আবেদন করতে পারেন-
(ক) শাফি-ই-শরীক অর্থাৎ সম্পত্তির সহ অংশীদার। যাদের স্বার্থ উত্তরাধিকার কিংবা ক্রয় সূত্রে অর্জিত হয় ।
(খ) শাফি-ই-খলিত অর্থাৎ দায়মুক্তি এবং আনুষঙ্গিক বস্তুতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি, যেমন-রাস্তা ব্যবহার কিংবা পানি নিষ্কাশনের অধিকার রয়েছে এমন ব্যক্তি।
(গ) শাফি-ই-জার অর্থাৎ সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক।
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন (১৯৫০) এর ৯৬ ধারা অনুযায়ী, সহ-অংশীদার অর্থাৎ যাদের স্বার্থ উত্তরাধিকার সূত্রে কিংবা ক্রয় সূত্রে অর্জিত হয় তারা এবং সংলগ্ন জমির মালিক অগ্রক্রয়ের দাবী করতে পারে । পরবর্তীতে ২০০৬ সালে এই আইনের সর্বশেষ সংশোধনীতে বলা হয় যে, শুধুমাত্র এক শ্রেণীর লোক অগ্রক্রয়ের অধিকার দাবী করতে পারে যাদের স্বার্থ উত্তরাধিকার সূত্রে অর্জিত হয় ।
কোন কোন ক্ষেত্রে অগ্রক্রয় করা যায় এবং যায় নাঃ
কোন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় সম্পূর্ণ হয়ে গেলে অগ্রক্রয় করা যায়। শুধুমাত্র বিক্রয় চুক্তি করা হলে এই অধিকার প্রয়োগ করা যায় না। এই অধিকার কোন স্থাবর সম্পত্তি দান, ছদকা, ওয়াকফ, মিরাশ কিংবা উইল করলে ও প্রয়োগ করা যায় না।
কোন প্রকার জমি এবং কি পরিমাণ জমি অগ্রক্রয় করা যায়ঃ
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন (১৯৫০) অনুযায়ী, কৃষি জমির ক্ষেত্রে অগ্রক্রয়ের অধিকার দাবী করা যায়। অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন (১৯৪৯) অনুযায়ী, শুধুমাত্র অকৃষি জমির ক্ষেত্রে অগ্রক্রয়ের অধিকার দাবী করা যায়। কিন্তু মুসলিম আইন অনুযায়ী যে কোন প্রকারের জমির ক্ষেত্রে অগ্রক্রয়ের অধিকার দাবী করা যায়। অগ্রক্রয়কারীকে বিক্রিত সমগ্র সম্পত্তি দাবী করতে হবে; কোন আংশিক বা খন্ডিত সম্পত্তি অগ্রক্রয় হতে পারে না।
অগ্রক্রয়ের আবেদনের সময়সীমাঃ
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন (১৯৫০) অনুযায়ী, বিক্রয়ের নোটিশ পাওয়ার কিংবা বিক্রয় সম্বন্ধে জ্ঞাত হওয়ার ৪ মাসের মধ্যে অগ্রক্রয়ের আবেদন করতে হবে। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে এই আইনের সর্বশেষ সংশোধনীতে বলা হয় বিক্রয়ের নোটিশ পাওয়ার কিংবা বিক্রয় সম্বন্ধে জ্ঞাত হওয়ার ২ মাসের মধ্যে অগ্রক্রয়ের আবেদন করতে হবে এবং বিক্রয় সম্পন্ন হওয়ার ৩ বছরের পর আবেদন করা যাবে না। মুসলিম আইন অনুযায়ী, রেজিষ্ট্রেশনের তারিখ হইতে ১ বছরের মধ্যে অগ্রক্রয়ের আবেদন অর্থাৎ মামলা করতে হবে।
অগ্রক্রয় সম্পর্কিত মুসলিম আইনের প্রযোজ্যতা বা প্রাধান্যতাঃ
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন (১৯৫০) এ বলা হয়েছে, “এ আইনের কোন কিছুই মুসলিম আইনে দেওয়া অগ্রক্রয়ের অধিকার হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করিবে না।’’


এর অর্থ দাঁড়ায় যে, যদি একটি বিক্রিত জমির জন্য এক ব্যক্তি এ আইন অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের আবেদন করে এবং একই জমির জন্য অপর এক ব্যক্তি মুসলিম আইন অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের মামলা দায়ের করে তখন মুসলিম আইন অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলার প্রথমে বিচার হবে এবং ইহার বিচার সাপেক্ষে অপর আবেদনটি স্থগিত থাকবে।

ফ্রম-বাংলাদেশের আইন কানুন

Print Friendly, PDF & Email

You may also like...

error: Content is protected !!