যৌতুক কাকে বলে (What is dowry) ?

যৌতুক নিরোধ আইনে যৌতুকের কোন স্পষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি। উক্ত আইনের ২ ধারাটি ব্যাখ্যা করলে যৌতুক শব্দটির সাথে সম্পর্ক যুক্ত কতিপয় সক্রিয় উপাদানের উপস্থিতি দেখা যায়। উক্ত ধারা মোতাবেক যৌতুক হতে হলে পক্ষগণ দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে বিবাহের প্রতিদান স্বরূপ যেকোন সম্পত্তি বা মুল্যবান জামানত প্রদান করা বা প্রদানে সম্মত হওয়াকে যৌতুক বলা হয়েছে। উক্ত আইনে বিবাহের প্রতিদান হিসাবে টাকা দাবী করলে ঐ টাকা যৌতুকের আওতায় পড়বে কিনা সে সম্বন্দে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০, এর ২ ধারায় যৌতুকের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।

ধার ২)

সংজ্ঞা।– বিষয় বস্তু বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী না হলে এই আইনে যৌতুক বলতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রদত্ত যে কোন সম্পত্তি বা মুল্যবান জামানত কে বুঝাবে,যা-
ক) বিবাহের এক পক্ষ অপর পক্ষকে বা
খ) বিবাহের কোন এক পক্ষের পিতা মাতা বা অন্য কোন ব্যাক্তি কর্তিক বিবাহের যে কোন পক্ষকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে-
বিবাহ মজলিশে বা বিবাহের পুর্বে বা পরে বিবাহের পনরুপে প্রদান করে বা প্রদানে সম্মত হয়।তবে দেনমোহর যৌতুকের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

ব্যাখ্যা ১) বিবাহের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয় এমন কোন ব্যক্তি বর বা কনে যে কোন পক্ষকে পাঁচশত টাকার কম মুল্যের কোন সামগ্রী উপহার হিসাবে প্রদান করলে তা যৌতুক হবেনা।

(অতএব, বিবাহের দাওয়াত খেতে গেলে ৫০০ টাকার কম মুল্যের উপহার নিতে হবে।)

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, এর ২(ঞ) ধারায় যৌতুকের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে,

(অ) কোন বিবাহের বর বা বরের পিতা বা মাতা বা প্রত্যক্ষভাবে বিবাহের সাথে জড়িত বর পক্ষের অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত বিবাহের সময় বা পুর্বে বা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকাকালে, বিবাহ স্থির থাকার শর্তে, বিবাহের পণ হিসাবে কনে পক্ষের নিকট দাবীকৃত অর্থ, সামগ্রী বা অন্যবিধ সম্পদ; অথবা

(আ) কোন বিবাহের কনে পক্ষ কর্তৃক বিবাহের বর বা বরের পিতা বা মাতা বা প্রত্যক্ষভাবে বিবাহের সাথে জড়িত বর পক্ষের অন্য কোন ব্যক্তিকে উক্ত বিবাহের সময় বা তত্পূর্বে বা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকাকালে, বিবাহ স্থির থাকার শর্তে, বিবাহের পণ হিসাবে প্রদত্ত বা প্রদানে সম্মত অর্থ, সামগ্রী বা অন্যবিধ সম্পদ সমূহ কে যৌতুক বলা হবে।

যৌতুক শব্দটি একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। যৌতুক সম্পর্কে আমরা বলতে পারিযে, বিবাহের সময় বা বিবাহের পুর্বে বা পরে বিবাহ স্থির থাকার শর্তে বরের পক্ষের লোকজন বা বর কর্তৃক কনে পক্ষের লোকজন, আত্নীয়স্বজন বা কনের নিকট দাবীকৃত যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রদেয় বা প্রদান করতে সম্মত হওয়া সম্পত্তি বা মুল্যবান জামানতকে বুঝায়।

বিবাহ উত্তর যে কোন সময় ও কনে পক্ষের নিকট টাকা বা মুল্যবান জামানত দাবী করা হলে তা বিবাহের প্রতিদান স্বরূপ দাবী করার সামিল হবে। তাছাড়া বিবাহের পর শ্বশুরের খরচে জামাই কে বিদ্যা শিক্ষা দেওয়া কিংবা বিদেশে পাঠানো বা দেশে চাকুরি প্রদান করা ও যৌতুকের অন্তর্ভুক্ত। যৌতুক কেবল নগদ অর্থ গাড়ি বাড়ি ইত্যাদির মধ্যে সীমিত নয়।

যৌতুক প্রদান বা গ্রহণের দণ্ডঃ

যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০, এর ৩ ধারায় যৌতুক প্রদান বা গ্রহণের দণ্ড সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই আইনের ৩ ধারা অনুযায়ীঃ
এই আইন বলবৎ হওয়ার পর, কোন ব্যক্তি যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ করলে অথবা যৌতুক প্রদান বা গ্রহণে সহায়তা করলে, সে অনধিক পাঁচ বৎসর পর্যন্ত এবং এক বৎসরের কম নহে মেয়াদের কারাদন্ডে বা জরিমানায় কিংবা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হবে।

যৌতুক দাবি করার দন্ডঃ

এই আইন কার্যকরি হওয়ার পর কোন ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কনে বা বরের পিতামাতা বা অভিভাবকের নিকট যৌতুক দাবি করলে, সে অনধিক পাঁচ বৎসর পর্যন্ত এবং এক বৎসরের কম নহে মেয়াদের কারাদন্ডে বা জরিমানায় কিংবা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হবে।

ধারা ১১) যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, এর ১১ ধারায় যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো বা আঘাত প্রদানের শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

১১৷ যদি কোন নারীর স্বামী বা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন তা হলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-

(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং উভয় ক্ষেত্রে উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন;

(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বত্সর কিন্তু অন্যুন পাঁচ বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং উভয় দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন;

(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক তিন বত্সর কিন্তু অন্যুন এক বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন;

এইখানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, এর ১১ ধারার (গ) উপধারার সাথে যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০, এর ৩ এবং ৪ ধারার মধ্যে একটি বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। সুষ্ট বিচার প্রক্রিয়ার জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, এর ১১ ধারার (গ) উপধারার সংশোধনী প্রয়োজন।

Print Friendly, PDF & Email

Law Help Bangladesh

This is a common profile to post random articles form net and other sources, generally we provide original author's information if found, but some times we might miss. Please inform us if we missed any or if you are aggrieved on any post, we will remove or re-post it with your permission.

You may also like...

error: Content is protected !!