আদালতের স্থগিতাদেশ বা ইনজাংশন(Injunction) কি? | 13

আদালতের স্থগিতাদেশ বা ইনজাংশন | 13
Specific Relief Act 1877, Section – 52,53,54| সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন – ১৮৭৭, ধারা – ৫২,৫৩,৫৪

আদালতের স্থগিতাদেশ বা ইনজাংশন (Injunction) সাধারণত Status que (স্থিতাবস্থা) বজায় রাখতে দেওয়া হয়, সহজ কথায় কোন সম্পত্তি ঠিক যেমন ছিল তা যেন তেমন-ই থাকে সেই আদেশ দেওয়া। একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ধরুন ক ও খ’য়ের মধ্যে একটি জমি “গ” নিয়ে দ্বন্দ্ব, এখন ক এ জমির দখলে আছে, মামলা চলাকালীন সময় ক তার জমি “গ” তে একটি পুকুর খননের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে, এমন সময় খ আদালতের কাছে গিয়ে স্থগিতাদেশের জন্য আবেদন করলো, এর প্রেক্ষিতে আদালত বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ইনজাংশনের আদেশ প্রদান করলো।

ইনজাংশন দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালত তার বিচক্ষণতা ব্যবহার করবেন, যদিও এর ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত বলা নেই তবে এই আইনের ধারা ৫৩-৫৭ পর্যন্ত কিছু নির্দেশনা দেওয়া আছে, যা আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করবো।

এই ইনজাংশন যেহেতু কোন ঘটনা ঘটার আগেই দেওয়া হয় তাই একে নিবর্তনমূলক ব্যবস্থাও বলা হয়।

নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা আদালতের বিচক্ষণতা ব্যবহার করে স্থগিতাদেশের (Injunction) মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়। (ধারা: ৫২)
এই আদেশ আবার দু ধরনের হয়।
১. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
২. স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা

১. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা : অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা সাধারণত কোন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেওয়া হয় অথবা আদালতের পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবত থাকে। মামলা চলাকালীন যে কোন সময়ে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিতে পারেন, যা দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। (ধারা: ৫৩)

২. স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা সাধারণত শুনানির পর মামলার যোগ্যতা এবং অবস্থা বিচার করে ডিক্রির মাধ্যমে আদালত প্রদান করে থাকেন, এটা কারো অধিকারের পক্ষে স্থায়ী ভাবে কোন পক্ষকে প্রদান করা হয়। (ধারা: ৫৩)

সমাজের সুবিচারের স্বার্থে ইনজাংশন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পক্রিয়া, তবে এর যথাযথ প্রয়োগের বপারেও খেয়াল রাখতে হবে।

ধারা ৫৩ তে সু-স্পষ্ট ভাবে কিছু ক্ষেত্রে ইনজাংশন দেওয়া যাবেনা বলে দেওয়া আছে। যেগুলো হল।
১. যখন এটি শোষণ মূলক ভাবে বা অপর্যাপ্ত ভাবে বা প্রকৃত ন্যায় বিচারের বিরুদ্ধে কাজ কাজ করবে।
২. যখন ইনজাংশনটি প্রতিবিধানের জন্য যথার্থ বা সঠিক নয়।
৩. যখন ইনজাংশনটি কারণে তাৎক্ষনিক বা মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
৪. যখন ইনজাংশন দিলে তা অযৌক্তিক বা অসুবিধাজনক হবে।

যখন বিবাদী বাদীর পক্ষে থাকা কোন দায়িত্ব ভঙ্গ করতে চায়, প্রকাশিত ভাবে বা কাজের মাধ্যমে তখন আদালত সেই দায়িত্ব ভঙ্গকে রোধ করারা জন্য স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারেন।

যদি এই দায়িত্বগুলো কোন চুক্তি থেকে উদ্ভূত হয় তখন আদালত এই আইনের ২য় অনুচ্ছেদ অনুসরণ করব।

যখন বিবাদী দখলে জন্য আক্রমণ করে বা দখলের হুমকি দেয় এবং বাদীর অধিকারে হস্তক্ষেপ করে বা করতে চেষ্টা করে বা ব্যাঘাত ঘটায় তখন নিচের বিষয়ে আদালত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিতে পারেন।

ক) যখন বিবাদী বাঁদির সম্পত্তির ট্রাষ্ট হিসেবে কাজ করেন।
খ) যখন এমন অবস্থা হয় যে, দখল করলে বা দখলে ফরে যে ক্ষতি হবে তা পরিমাপ করারা যথাযথ কোন মাপকাঠি না থাকলে।
গ) যখন দখল হলে সেটা আর আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যম্যে পর্যাপ্ত ভাবে প্রতিবিধান করা যাবে না।
ঘ) যখন এটা সম্ভাব্য যে, দখলের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।
ঙ) যখন একাধিক বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করতে স্থগিতাদেশ প্রয়োজন হয়। — (ধারা ৫৪)

চুক্তি বাতিলকারন | 12

স্থগিতাদেশ (ইনজাংশন) কখন হবে কখন হবে না | 14

Print Friendly, PDF & Email

Rayhanul Islam

The author is an original thinker; often challenges the regular rule of conduct considering various perspective on the basis of scientific reasoning to ensure the peace and prosperity of the society. He works as freelancer advocate and promote legal knowledge and human right concept to the root level. The author is also a tech enthusiast and web developer, he loves psychology as well.

You may also like...

error: Content is protected !!