সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার (Discretion) ব্যবহার | 09

সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার (Discretion) ব্যবহার। | 09
Specific Relief Act 1877, Section – 22 | সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন – ১৮৭৭, ধারা – ২২

আদালতের সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের ডিক্রি দেওয়া একটি বিচক্ষণতা ব্যবহার পূর্বক বিষয়, সাধারণত যেখানে May Clause/ presumption থাকে সেখানে আদালত বিচক্ষণতা ব্যবহার করেন। তবে আদালত স্বেচ্ছাচারী ভাবে বা আইনে দেওয়া যাবে বলেই কোন ডিক্রি প্রদান করবেন না বরং আদালত বিচার নীতি এবং উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত দেবেন।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের মামলায় বিচক্ষণতা ব্যবহারের সময় আদালত নিচের বিষয়গুলো তার নজরে রাখবেন।

১. যেখানে এমন পরিস্থিতি দাড়ায় যে মামলাটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের আওতায় চুক্তিটি পালন করতে বাধ্য করলে বাদীর পক্ষ থেকে কোন প্রতারণা বা মিথ্যে উপস্থাপনা না থাকলেও বাদী বিবাদীর উপর কোন অন্যায্য সুবিধা পেয়ে যাবে।
ব্যাখ্যা: ক খ’য়ের সাথে জমি বিক্রি করার চুক্তি করেছে, কিন্তু জমিটির এমন অবস্থা যে সেটা বেশীরভাগ সময়-ই পানিতে তলিয়ে থাকে তাই বাধ না দিলে তা ব্যবহার কারা যায় না, এবং এটা খ জানতো না। এখন এখানে খ কে যদি ক চুক্তি সম্পাদনে বাধ্য করে তবে এখানে খ এর ক্ষতি হয়ে যাবে এবং ক অন্যায্য সুযোগ পাবে, তাই আদালত এখানে ক’য়ের পক্ষে রায় দেবেন না।

২. যেখানে এমন পরিস্থিতি দাড়ায় যে মামলাটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের আওতায় চুক্তিটি পালন করতে বাধ্য করলে বিবাদীর উপর কোন কঠিন (involve some hardship) অবস্থার সৃষ্টি হয় কিন্তু চুক্তিটি পালন করতে বাধ্য না করলে বাদীর উপর কোন কঠিন অবস্থার সৃষ্টি হয় না।
ব্যাখ্যা: ক খ’য়ের সাথে জমি বিক্রি করার চুক্তি করেছে, কিন্তু জমিটির এমন অবস্থা যে সেটাতে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই এবং চুক্তিতেও রাস্তার ব্যপারে কিছু বলা নেই, এবং এটা খ আগে বুঝতে পারেনি। এখন এখানে খ কে যদি ক চুক্তি সম্পাদনে বাধ্য কর তবে এখানে খ এর ক্ষতি হয়ে যাবে এবং তার জন্য কঠিন ও কষ্টসাধ্য অবস্থার সৃষ্টি হবে কিন্তু চুক্তিটি পালিত না হলে ক’য়ের এমন কোন ক্ষতি হবে না।তাই আদালত এখানে ক’য়ের পক্ষে রায় দেবেন না।

৩. যদি বাদী চুক্তি সম্পাদন করতে প্রধান কাজগুলো করে ফেলেছে এবং চুক্তি সম্পাদিত না হলে তার ক্ষতি হবে তখন আদালত সেক্ষেত্রে বাদীর পক্ষে রায় দেবেন।
ব্যাখ্যা: ক একটি রেলওয়ে কোম্পানির কাছে তার জমি বিক্রির চুক্তি করে, যেখানে বলা হয়ে ক তার জমির উন্নয়নে কিছু কাজ করবে, এবং ক সেগুলো করে। এখন যদি রেলওয়ে কোম্পানি চুক্তি সম্পাদন করতে অস্বীকৃতি জানায় তবে, ক মামলা করলে আদালত তার পক্ষে রায় দেবে।

যখন দলিলের অনুমোদন (সংশোধন) করা যাবে। | 10

Print Friendly, PDF & Email

Rayhanul Islam

The author is an original thinker; often challenges the regular rule of conduct considering various perspective on the basis of scientific reasoning to ensure the peace and prosperity of the society. He works as freelancer advocate and promote legal knowledge and human right concept to the root level. The author is also a tech enthusiast and web developer, he loves psychology as well.

You may also like...

error: Content is protected !!