স্থগিতাদেশ (ইনজাংশন) কখন হবে কখন হবে না | 14

স্থগিতাদেশ (ইনজাংশন) কখন হবে কখন হবে না। | 14
Specific Relief Act 1877, Section – 55,56,57 | সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন – ১৮৭৭, ধারা – ৫৫, ৫৬, ৫৭

আবশ্যক স্থগিতাদেশ: যখন কোন দায় ভঙ্গ ঠেকাতে কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বাধ্য করা জরুরি হয়ে পরে, যাকিনা আদালত তার ক্ষমতা দ্বারা বাধ্য করতে পারবে, সেক্ষেত্রে আদালত তার বিচক্ষণতা ব্যবহার করে স্থগিতাদেশ প্রদান করবেন। (ধারা ৫৫)

উদাহরণ:
ক) খ’য়ের জমির আলো-বাতাসের অধিকার, ক’য়ের জমির উপর গড়ে তোলা নতুন ভবনের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, খ এখানে স্থগিতাদেশের মাধ্যমে ক কে তার ভবন তোলা থেকে বিরত রাখতে পারবেন।
খ) আবার, খ’য়ের জমির উপর কয়ের বাড়ির চাল চলে এসেছে, আগের উদাহরণের মতই এখানেও খ স্থগিতাদেশের মাধ্যমে ক কে তার চাল / শেড কমাতে বাধ্য করতে পারেন।
গ) ক খ’কে হুমকি দিল যে, সে খয়ের সম্পর্কে কিছু বক্তব্য প্রকাশ করবে যা কিনা আবার পেনাল কোড মতে দণ্ডনীয় অপরাধ (এমন খবর প্রকাশ করা, উদা: মানহানিকর খবর) এখানে আদালত খ’য়ের পক্ষে স্থগিতাদেশ দিয়ে ক কে খবরটি প্রকাশ না করতে বাধ্য করতে পারবেন।
ঘ) ক একজন ডাক্তার, খ তার মক্কেল, ক খ’কে হুমকি দিল যে ক ও খয়ের সাথে যেসব লিখিত যোগাযোগ হয়েছে তা ক প্রকাশ করে দেবে যাতে করে খ যে অনৈতিক জীবন-যাপন করে তা প্রকাশ হয়ে যাবে, খ এখানে স্থগিতাদেশ পাওয়ার মাধ্যমে ক কে এমন কাজ করা হতে বারিত করতে পারে। ইনজাংশন

স্থগিতাদেশ নিম্ন লিখিত বিষয়ে প্রত্যাখ্যাত হবে। (ধারা ৫৬)

ক) যে আদালতে মামলা চলছে সেই আদালতে বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করতে যদি স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়, তবে এর ব্যতিক্রম হল, যদি মামলার একাধিক্য রোধের জন্য এ আবেদন করা হয়।
খ) কোন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করতে যদিনা সেই আদালতে আবেদন দায়ের কার আদালতে অধস্তন না হয়ে থাকে।
গ) কোন ব্যক্তিকে আইন প্রণয়নকারী দলের কাছে আবেদন করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করলে।
ঘ) যদি কোন সরকারি কাজের উপর বা কোন সার্বভৌম রাষ্ট্রের কাজের উপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়।
ঙ) কোন ফৌজদারি ব্যাপারে স্থগিতাদেশ চাইলে।
চ) বিশেষ ভাবে সম্পাদন-যোগ্য নয় এমন কোন চুক্তি ভাংতে স্থগিতাদেশ চাইলে।
ছ) উপদ্রবের মামলায় যেখানে উপদ্রবের বিষয়টি যথাযথ ভাবে পরিষ্কার নয়/ প্রমাণিত নয়, সেখানে উপদ্রব কমাতে স্থগিতাদেশ চাইলে।
জ) ক্রমাগত দায় ভঙ্গ থেকে বিরত রাখতে স্থগিতাদেশ চাইলে, যেখানে যিনি স্থগিতাদেশ চাইছেন তিনি ঐ দায় ভঙ্গর সুযোগ দিলে বা চুপ থেকে মৌন সম্মতি দিলে।
ঝ) ট্রাষ্ট ভঙ্গ ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়ে, যেখানে স্থগিতাদেশ বাদে অন্য কোন ভাবে যথাযথ প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
ঞ) যখন কোন ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধির ব্যবহারের / কাজের কারণে স্থগিতাদেশ পাওয়ার যোগ্যতা হারায়।
ট) যখন যিনি স্থগিতাদেশ চান তার মামলায় কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ না থাকে।

না বোধক চুক্তিতে স্থগিতাদেশের সম্পাদনা (ধারা ৫৭)

ধারা ৫৬ এর উপধারা (চ)-তে যাই বলা থাকুক না কেন, যদি কোন চুক্তিতে একটি হ্যাঁ বোধক এবং একটি না বোধক অংশ / মতৌক্য থাকে (Agreement), এ দুটি বিষয় আলাদা করা যায়, এখানে না বোধক মতৌক্য (Agreement) টি যদি প্রকাশিত বা সুপ্ত (Expressed or Implied) অবস্থায় থাকে, এবং বাদী যদি তখন পর্যন্ত চুক্তি পালনে ব্যর্থ না হয়ে থাকে তবে —
আদালত যদি হ্যাঁ বোধক চুক্তিটি বিশেষ ভাবে বাস্তবায়ন করতে অপারগ হয় তবুও না বোধক চুক্তিটিকে বিশেষ ভাবে সম্পাদন করা হতে বারিত করবেন না।

আদালতের স্থগিতাদেশ বা ইনজাংশন(Injunction) কি? | 13

Rayhanul Islam

The author is an original thinker; often challenges the regular rule of conduct considering various perspective on the basis of scientific reasoning to ensure the peace and prosperity of the society. He works as freelancer advocate and promotes legal knowledge and human right concept to the root level. The author is also a tech enthusiast and web developer, he loves psychology as well.

You may also like...

error: Content is protected !!