আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে আমার মুক্ত চিন্তাঃ

আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় প্রত্যেক ব্যক্তিই এই আইনের ৫৭ ধারার আওতায় আটক বা হয়রানির শিকার হতে পারে।। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে- ‘কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানী প্রদান করা হয়, তাহা ইহলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ’।
আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা আমাদের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সংবিধানের ৩৯(২) অনুচ্ছেদে আছে-“Subject to any reasonable restrictions imposed by law in the interests of the security of the State, friendly relations with foreign relations with foreign states, public order, decency or morality, or in relation to contempt of court, defamation or incitement to an offence-
(a) the right of every citizen to freedom of speech and expression যার অর্থ দাঁড়ায়-“রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানী বা অপরাধ, সংগঠনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে-(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার’। এই আইন সংবিধানের উল্লেখিত ধারাকে লঙ্ঘন করেছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা সংক্ষুব্ধ পক্ষ দাবিদার কেউ যে কারো বিপক্ষে এই আইনের অধীনে মামলা করতে পারে এবং এই ধারা জামিনঅযোগ্য। ফলে বিচারের আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি/গোষ্ঠী নিগৃহিত হবেন আইন-আদালতের মাধ্যমে। আইসিটি আইনের ৫৭(১) লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অনধিক দশ বৎসর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এই সাজা ততখানি কঠোর ততখানি হালকা তার অভিযোগ।
১৯৪৮ সালে গৃহীত Universal Declaration of Human Rights এর আর্টিকেল ১৯ এ রয়েছে-Everyone has the right to freedom of opinion and expression; this right includes freedom to hold opinions without interference and to seek, receive and impart information and ideas through any media and regardless of frontiers. এই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকেও বাক এবং ব্যক্তির স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিতে হবে। অনুরূপভাবে International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR) এর আর্টিকেল ১৯ ও কথাবলার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। “the right to hold opinions without interference. Everyone shall have the right to freedom of expression”.
সংগৃহীত,

Print Friendly, PDF & Email

You may also like...

error: Content is protected !!