সংসদীয় বিতর্কের নিয়মাবলী

পটভূমিঃ

বিতর্ক অঙ্গনে ৯১ এর সংবিধান সংশোধনীর আগে থেকেই বিভিন্নভাবে সংসদীয় বিতর্কের চর্চা প্রচলিত থাকলেও অনেকটা জাতীয় রাজনীতির উপচে পড়া প্রভাবে মূলধারার বিতর্ক মডেল পরিণত হয় ’৯২-৯৩ বা সমসাময়িক সময়ে। অল্প সময়ের মধ্যে সংসদীয় রীতির বিতর্ক একটি জনপ্রিয় ধারায় পরিণত হয়। জাতীয় টেলিভিশনে এবং প্রাইভেট টিভি চ্যানেলগুলোতে সংসদীয় নীতি বিতর্কের প্রচলন বলে দেয় প্রচলিত সনাতন ধারা বা অন্য যে কোন ধারার মতই এই ধারাটিও যথেষ্ট সমৃদ্ধ এবং শক্তিশালী। সংসদীয় বিতর্কের মূল ধারাটি এসেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ‘হাউস অব কমন্স’ বা নিম্ন কক্ষের অধিবেশনে আয়োজিত বিষয়ভিত্তিক বা ইস্যুভিত্তিক তর্কযুদ্ধকে অনুসরণ করে। এ পর্যন্ত সংসদীয় রীতির বাংলাদেশী এবং আন্তর্জাতিক রূপরেখায় তেমন বিশেষ কোন পার্থক্য নেই।

debate

সংসদীয় বিতর্কের নিয়মাবলী:

১ম পরিচ্ছেদ :পরিকাঠামো

১.১ সংসদীয় বিতর্কে দুইটি দল অংশগ্রহণ করবে।
১.২ দল দুইটি সরকারি ও বিরোধী দল হিসেবে চিহ্নিত হবে।
১.৩ সরকারি এবং বিরোধী উভয় দলে তিনজন করে বিতার্কিক থাকবেন। তবে ২ (দুই) জনের সংসদীয় বিতর্কও অনুষ্ঠিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে নিয়ম সবই তিনজনের সাথে একই থাকবে, তবে বক্তার সম্বোধন হবে তিন জনের সংসদীয় বিতর্কের ১ম ও ৩য় বক্তার অনুরূপ।

১.৪ বিতার্কিকদের পরিচিতিঃ

ক. সরকারি দল ১ম বক্তা – প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদনেতা ২য় বক্তা-মন্ত্রী/সরকার দলীয় হুইপ ৩য় বক্তা – সরকার দলীয় সংসদ সদস্য

খ. বিরোধী দল ১ম বক্তা – বিরোধী দলীয় নেতা ২য় বক্তা – বিরোধী দলীয় উপনেতা /বিরোধী দলীয় হুইপ ৩য় বক্তা – বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য

১.৫ বক্তব্য প্রদানের ক্রমটি নিম্নরূপ হবে-

১. প্রধানমন্ত্রী ২. বিরোধী দলীয় নেতা ৩. মন্ত্রী/সরকার দলীয় হুইপ ৪. বিরোধী দলীয় উপনেতা/বিরোধী দলীয় হুইপ ৫. সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ৬. বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য ৭. বিরোধী দলীয় নেতা (যুক্তিখন্ডন) ৮. প্রধানমন্ত্রী (যুক্তিখন্ডন ও সমাপনী বক্তব্য)

১.৬ বিতর্ক দুইভাবে বিভক্ত। গঠনমূলক ও যুক্তিখন্ডন।
১.৭ একজন স্পীকার বিতর্ক পরিচালনা করবেন।
১.৮ বিতর্ক মঞ্চে স্পীকার ও দুই দলের বিতার্কিক ব্যতিত একজন সময় রক্ষক (স্পীকার এর ডান দিকে) এবং আয়োজক কর্তৃক নির্ধারিত অনূর্ধ্ব দুইজন স্বেচ্ছাসেবক (স্পীকার এর বামদিকে) উপবেশন করবে।

১.৯ সময়সীমা সংক্রান্ত ধারাসমূহ-

ক. প্রধানমন্ত্রী তাঁর গঠনমূলক পর্বে উদ্বোধনী বক্তব্যে সময় পাবেন ৫ মিনিট। এক্ষেত্রে প্রথম (১ম)মিনিটে একটি,৪ মিনিট শেষে একটি সতর্ক সংকেত এবং ৫ মিনিট শেষে চূড়ান্ত সংকেত দেওয়া হবে। খ. প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী ৫ জন বক্তা (সরকারী দলীয় হুইপ/মন্ত্রী ও সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এবং বিরোধী দলীয় নেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা বা হুইপ, বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য) প্রত্যেকে গঠনমূলক পর্বে ৫ মিনিট করে সময় পাবেন। এক্ষেত্রেও প্রথম (১ম) মিনিটে একটি, ৪ মিনিট শেষে একটি সতর্ক সংকেত এবং ৫ মিনিট শেষে চূড়ান্ত সংকেত দেওয়া হবে। গ. যুক্তিখন্ডন পর্বে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা তাদের যুক্তিখন্ডন ও সমাপনী বক্তব্যের জন্য ৩ মিনিট সময় পাবেন। এক্ষেত্রেও প্রথম (১ম) মিনিটে একটি, ২ মিনিট শেষে সতর্ক সংকেত এবং ৩ মিনিট শেষে চূড়ান্ত সংকেত দেওয়া হবে। ঘ. প্রত্যেক বক্তাকে অবশ্যই তার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য শেষ করতে হবে।

১.১০ সংসদীয় ধারায় বিতর্কের মঞ্চ ও স্থানকে অধিবেশন কক্ষ বা হাউস বলে অভিহিত করতে হবে।

১.১১ সম্বোধন সংক্রান্ত ধারাসমূহ-

ক. বিতার্কিকগণ সংসদ সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন তাই তাদের সম্বোধন করা হবে সংসদীয় রীতিতে। খ. সরকার দলীয় সদস্যদের যথাক্রমে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’, ‘সম্মানিত মন্ত্রী মহোদয়’ বা ‘সম্মানিত হুইপ’ এবং ‘সম্মানিত হুইপ’ এবং ‘সম্মানিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্য’ রূপে সম্বোধন করা হবে। গ. বিরোধী দলীয় সদস্যদের ‘সম্মানিত বিরোধী দলীয় নেতা’, ‘সম্মানিত বিরোধী দলীয় উপনেতা’ বা ‘সম্মানিত বিরোধী দলীয় হুইপ’ এবং ‘সম্মানিত বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য’ রূপে সম্বোধন করতে হবে। ঘ. বিতার্কিকগণ স্পীকারকে ‘জনাব/সম্মানিত/মাননীয়’ স্পীকার বলে সম্বোধন করে নিজ নিজ বক্তব্য পেশ করবেন। ঙ. এছাড়াও অবমাননাকর নয় এমন যে কোন সম্বোধন স্পীকার ও উভয় দলের বিতার্কিকদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। চ. কোনক্রমেই স্পীকারকে ‘মহামান্য’ বলে সম্বোধন করা যাবে না।

১.১২ একাধিক (অনূর্ধ্ব তিনটি)বিষয়ের মধ্যে থেকে অংশগ্রহণকারী দলসমূহ বাছাই প্রক্রিয়ায় একটি বিতর্কের বিষয় নির্ধারণ করবে। তবে অনেক ক্ষেত্রে আয়োজকরা একটি নির্দিষ্ট বিষয় দিয়ে থাকেন তাই বাছাই প্রক্রিয়াটি আয়োজকদের দ্বারা নির্ধারিত এবং পরিচালিত হবে।

১.১৩ ‘কয়েন টস’ এর মাধ্যমে সরকারি ও বিরোধী দল নির্বাচিত হবে।

১.১৪ বিষয় ও পক্ষ নির্ধারিত হবার ২০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে বিতর্ক অবশ্যই শুরু করতে হবে।

১.১৫ প্রস্তুতি গ্রহণের সময় বিতার্কিকরা তাদের প্রয়োজন মত বই, পত্রিকা এবং জার্নাল ব্যবহার করতে পারবেন।

২য় পরিচ্ছদঃ স্পীকার, দায়িত্ব ও ক্ষমতা

২.১ একজন মনোনীত স্পীকার বিতর্কটি পরিচালনা করবেন।

২.২ স্পীকারের দায়িত্বসমূহ নিম্নরূপঃ

ক. তিনি উত্থাপিত আপত্তিসমূহ বিবেচনা করবেন। খ. প্রয়োজনে সাময়িক সময়ের জন্য বিতর্ক অধিবেশনের মূলতবি ঘোষণা করবেন। গ. অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যাবলী দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করবেন।

২.৩ যদি বিচারক সংখ্যা ২-৩ জন হয় সেক্ষেত্রে স্পীকার এবং বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেন তবে এর বেশি বিচারকের উপস্থিতির ক্ষেত্রে স্পীকার শুধুমাত্র বিতর্ক পরিচালনা করবেন। তবে এটিও আয়োজকদের দ্বারা নির্ধারিত এবং পরিচালিত হবে। ২.৪ বিভিন্ন উত্থাপিত আপত্তি সম্বন্ধে স্পীকারের সিদ্ধান্তই নিরপেক্ষ এবং চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

২.৫ স্পীকার নিজে বিতর্ক শেষে এর মান ও দিক সম্পর্কে সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করবেন এবং জুরি বোর্ডের এক বা একাধিক সদস্যকে মূল্যায়ন করার ফ্লোর দেবেন। তবে সমগ্র ব্যাপারটিই নির্ধারিত সময়ের উপর নির্ভর করবে এবং আয়োজকদের দ্বারা নির্ধারিত এবং পরিচালিত হবে।

২.৬ স্পীকার কোন বক্তার নির্ধারিত সময় শেষ হবার ১৫ সেকেন্ড পর (যদি বক্তা বক্তব্য চালিয়ে যায়) তাকে একবার সতর্ক করে দেবেন। এর ৫ সেকেন্ডের মাঝে বক্তব্য শেষ না হলে স্পীকার তাকে শেষ বাক্য বলে বসে পড়ার অনুরোধ জানাবেন।

২.৭ স্পীকার কোনভাবেই কোন বক্তার বক্তব্যের মাঝে তাকে শুধু ধন্যবাদ দিয়ে বসে পড়তে বলতে পারবেন না।

২.৮ যদি বক্তা তার নির্ধারিত সময়ের পর ১৫ সেকেন্ড এবং স্পীকার কর্তৃক সতর্কিত হবার ৫ সেকেন্ড পরেও বক্তব্য পেশ করেন তাহলে তার অতিরিক্ত সময় গণনা করা হবে এবং উক্ত সময়ের কোন বক্তৃতাই গ্রহণযোগ্য হবে না এবং মাননীয় স্পীকার সময়রক্ষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত সময়ের হিসাব নিয়ে তা স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বারা জুরি বোর্ডের কাছে পাঠাবেন।

২.৯ বিতর্ক শুরুর পূর্বে স্পীকারের নিকট বিতর্কের সকল নীতিমালা সরবরাহ হবে এবং স্পীকারের সমগ্র ব্যাপারটি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে, যাতে করে বিতর্ক চলাকালীন এর আবহ নষ্ট না হয়।

২.১০ স্পীকারের যে কোন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হাউজ এ উপস্থিত বিতার্কিক, দর্শক, স্বেচ্ছাসেবক ও কর্তব্যরত কর্মকর্তাবৃন্দ সকলেই বাধ্য থাকবেন।

৩য় পরিচ্ছেদঃ বিতর্কের বিষয়বস্তু (সংজ্ঞা, ব্যাখ্যা), বিশ্লেষণ কৌশলপত্র

৩.১ বিল সংক্রান্ত ধারা-

ক. সেই সব বিষয়বস্তু বিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য পাবে যেগুলো সরকারি দল সংসদে আইন হিসেবে পাশ করাতে চায় (যেমনটি সত্যিকার সংসদে হয়)। খ. বিলের দ্বান্দ্বিক আবেদন থেকে বাস্তবধর্মী প্রায়োগিক আবেদনটিই মূখ্য। গ. সে বিষয়গুলোই বিলের মর্যাদা পেতে পারে যেগুলো ‘হোক’ অথবা ‘উচিত’ শব্দমালা দিয়ে শেষ হয়। ঘ. উদাহরণ – শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড প্রদান রহিত করা হোক। -অর্থনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশের অবিলম্বে গ্যাস রপ্তানি করা উচিত।

৩.২ কোন বিতর্কের বিষয়কে একবার বিল হিসেবে উত্থাপিত করলে-

ক. পুরো বিতর্কে বিষয়বস্তুকে বিল হিসেবে উচ্চারণ করতে হবে। পুনরায় একে প্রস্তাব হিসেবে উল্লেখ করার অবকাশ নেই। তা না হলে এটি Point of Order এর আওতায় আসবে।
খ. বিল এর মূল বিশ্লেষণ হবে নির্দিষ্ট (Specified এবং Identified) কি কারণে বিলটি উত্থাপন করা হয়েছে এবং এটি পাস করে তার প্রভাব কি কি হবে এগুলো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা করতে হবে।
গ. বিল উত্থাপিন করলে এর সাথে অনেকগুলো ধারা উল্লেখ করা অত্যাবশ্যকীয় নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ধারা প্রয়োগ ভালো ফলাফল বয়ে আনে। যেমন- গনতন্ত্র নিষিদ্ধ করা উচিত। এই বিলের উপর বিতর্কে কিছু ধারা আসেত পারে। – গনতন্ত্র বিকল্প কোন তন্ত্র চালু করা হবে। – নতুন কোন তন্ত্র চালু করা তা কিভাবে করা হবে (এবং এর সাথে কিছু তথ্য)। – নতুন যে তন্ত্র চালু করা হবে তার Visibility কতটুকু/কেন দরকার ।

ঘ. ধারা সংযোজন করা যায় তখনই যখন সেগুলো ‘বিল’ এর উদ্দেশ্য ও প্রায়োগিক দিক সম্পর্কে সুষ্পষ্ট ধারণা দেয়।

৩.৩ প্রস্তাবের সংজ্ঞাঃ যেগুলো সংসদীয় বিতর্কে ‘বিল’ হবার মত অবস্থায় থাকছে না সেগুলো সবই প্রস্তাব হিসেবে পরিগণিত। সবধরনের বিষযই প্রস্তাবের মর্যাদা পাবে। অন্যভাবে বললে সকল ধরনের বিল প্রস্তাবও বটে কিন্তু সকল প্রস্তাব বিল নয়। ৩.৪ প্রস্তাবের ধরন ও বিশ্লেষণঃ

ক. তুলনামূলক অনুষঙ্গঃ সংজ্ঞা ও উদাহরণ- এ ধরনের বিষয়বস্তুতে দুটো মূল চলক (Variable) এর মধ্যে একটিকে অপরটির চাইতে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে প্রমানের চেষ্টা করা হয়, যেমন- – দারিদ্র বিমোচন নয়, তথ্য প্রযুক্তির উত্তরণই একবিংশ শতকের প্রধান চ্যালেঞ্জ। – কৃষি নয়, শিক্ষাই হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সোপান।

খ. প্রধান/মূল বিতর্কঃ সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যাঃ এধরনের বিতর্কের বিষয়ে ‘ই’ প্রত্যয় কিংবা ‘মূল’ বা ‘প্রধান’ জাতীয় শব্দ থাকে। কিন্তু এরা কখনোই একমাত্র বোঝায় না। যেমন- – শিক্ষার অভাবই অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান বাধা। – যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় চরিত্রহীনতাই বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের প্রধান কারণ। উভয় বিষয়ে ‘ই’ (প্রথমটিতে) এবং ‘প্রধান’ (দ্বিতীয়টিতে) কখনোই একমাত্র বোঝায় না। ‘ই’ প্রত্যয় ব্যবহার করা হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিষয়বস্তুর উপর Emphasis করার জন্য ব্যবহার করা হয়। ‘প্রধান’ ও ‘মূল’ শব্দদ্বয়ের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য।

বিশ্লেষণ ধারাঃ

এ ধরণের বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক হলে সরকারি দলকে অবশ্যই ‘মূল’ বা ‘প্রধান’ কারণটি নিয়ে বিতর্ক করতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের সুবিধাটি হল যে, তারা অন্য যে কোন কারণকেই মূল কারণ থেকে উৎসারিত হিসেবে প্রমান করার চেষ্টা করতে পারে। তাদের আরেকটি সুবিধা হলে-তারা বিরোধী দলের কাছে অন্য কোন ‘প্রধান’ বা ‘মূল’ অনুষঙ্গের নাম চাইতে পারে। একবার সরকারি দল প্রস্তাবটি এইভাবে উত্থাপন করলে বিরোধী দলকে অবশ্যই আরেকটি ‘মূল’ বা ‘প্রধান’ কারণ চিহ্নিত করতে হবে।

গ. একটি নির্দিষ্ট বক্তব্য (Statement): যেমন- – জাতিসংঘ একটি অচল সংস্থা। – বর্তমানে প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বিচ্যুত। লক্ষ্য করে দেখতে হবে এ ধরণের বিষয়বস্তুতে আগের দু’ধরণের মত কোন বাঁধাধরা Grammatical নিয়ম নেই। এখানে দু পক্ষের কোন পক্ষই নির্দিষ্ট কোন বিন্দুতে আটকা থাকতে বাধ্য নন। ‘মূল’ বা ‘প্রধান’ অথবা শুধুমাত্র দুটো অনুষঙ্গতেই বাঁধা হয়ে থাকতে হচ্ছে না কাউকে। এ ধরনের বিতর্ক একটু কঠিন কারণ সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও আরো অনেক বিষয়ে বিতার্কিকের জ্ঞানের প্রয়োজন। যথেষ্ট পরিমাণ জ্ঞান থাকলে বিষয়কে যে কোন দিকে ‘মোড় ঘোরানো’ বা Twist করানো সম্ভব। এধরনের প্রস্তাবে সরকারি দলের সুবিধাটি হচ্ছে তার বিষয়বস্তুকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করবে বিরোধী দলকেও সেভাবেই বিতর্ক করতে হবে। যেমন- ‘বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিচ্যুত’ -এই প্রস্তাবের উপর বিতর্ক করতে গেলে সরকারি দল যদি ‘বর্তমান প্রজন্ম’ বলতে ৮০’র দশকের পরবর্তী প্রজন্ম বোঝায় তবে বিরোধী দলকেও তা মেনে নিতে হবে। তাদের তখন বর্তমান প্রজন্মের Time limit পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে কোনভাবেই কোন সমান্তরাল বিতর্ক শুরু করা যাবে না।

চতুর্থ পরিচ্ছেদঃ বক্তব্যের বৈশিষ্ট্য

৪.১ সংসদে প্রত্যক বক্তার বক্তব্যের কিছু সুনির্ধারিত ও সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। ৪.২ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য- ক. বিষয়বস্তুর পূর্ণ ব্যাখ্যা এবং যদি কোন শব্দ সংজ্ঞার দাবী রাখে তা প্রদান করা। খ. বিষয়বস্তুর ব্যাখ্যার সাথে সাথে প্রধান প্রধান দলীয় যুক্তিগুলো উপস্থাপন করা এবং দলীয় অবস্থানকে সুদৃঢ় করা। গ. কোন বিল নিয়ে আলোচনা হলে প্রস্তাবিত আইনের সংশ্লিষ্ট কোন উপধারা থাকলে তা উল্লেখ ও ব্যাখ্যা করা। ঘ. কোন প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রচলিত কোন ব্যবস্থার পরিবর্তন চাইলে এর পরিবর্তে তারা কী চাইছেন এবং কীভাবে চাইছেন তা ব্যাখ্যা করা। ঙ. সর্বোপরি পরবর্তী বক্তা কী বলেন তা উল্লেখ করা। যাতে শ্রোতাদের কাছে বক্তব্য অসমাপ্ত মনে না হয় তা নিশ্চিত করা। চ.দায়িত্ব বন্টন করা।

৪.৩ বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য- ক. প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত সংজ্ঞা বা প্রস্তাবের ব্যাখ্যার যদি যৌক্তিক অসংগতি থাকে তবে নিজস্ব ব্যাখ্যা প্রদান করা। খ. যদি প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা ও সংজ্ঞার সাথে একমত হয় তবে বিরোধিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা। গ. উত্থাপিত প্রস্তাবের/বিলের বিপরীতে Counter Model তুলে ধরা। ঘ.দায়িত্ব বন্টন করা। ঙ. পরবর্তী বক্তার সম্ভাব্য যুক্তিগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করা।

মন্ত্রীঃ

ক. বিরোধী দলীয় নেতার ব্যাখ্যার যদি যৌক্তিক অসংগতি থাকে তবে নিজস্ব ব্যাখ্যা প্রদান করা। খ. বিরোধী দলীয় নেতার কিছু যুক্তি খন্ডন করা। গ. অর্পিত দায়িত্বের ব্যাখ্যা দেওয়া। ঘ. দলীয় নেতার প্রদত্ত অবস্থান অনুযায়ী ব্যাখ্যা দেওয়া । ঙ. দলীয় নেতার প্রদত্ত ‘দলীয় অবস্থান’ বা ‘দলীয় কৌশল’ সুদৃঢ় করা ।

বিরোধী দলীয় উপনেতা/হুইপঃ

ক. সরকার দলের মন্ত্রীর ব্যাখ্যার যদি যৌক্তিক অসংগতি থাকে তবে নিজস্ব ব্যাখ্যা প্রদান করা। খ. মন্ত্রীর কিছু যুক্তি খন্ডন করা। গ. অর্পিত দায়িত্বের ব্যাখ্যা দেওয়া। ঘ. দলীয় নেতার প্রদত্ত অবস্থান অনুযায়ী ব্যাখ্যা দেওয়া । ঙ. দলীয় নেতার প্রদত্ত ‘দলীয় অবস্থান’ বা ‘দলীয় কৌশল’ সুদৃঢ় করা।

সংসদ সদস্য (সরকারী ও বিরোধী দল):

ক. বিপক্ষ দলীয় কিছু যুক্তি খন্ডন করে শুরু করা । খ. অর্পিত দায়িত্বের ব্যাখ্যা দেওয়া। গ. সমন্বয় সাধন করা।

৪.৫ যুক্তিখন্ডন পর্বঃ শুধুমাত্র যুক্তিখন্ডনই করা যাবে তা নয়, স্ট্র্যাটেজিও খন্ডন করা যাবে।

৫ম পরিচ্ছেদঃ পয়েন্টসমূহ

৫.১ কোন বক্তার বক্তব্যের মাঝখানে বাধা দেওয়া বা Interrupt করার ক্ষমতা সব সদস্যের রয়েছে।

৫.২ পয়েন্ট উত্থাপনের মাধ্যমে কাজটি করতে হয়।

৫.৩ পয়েন্ট তিন প্রকার- ১. Point of Information (POI) ২. Point of Order (POO) ৩. Point of Privilege (POP)

৫.৪ Point of Information (POI)

ক. একজন বক্তা বক্তব্য রাখার সময় তার প্রতিপক্ষের কোন বক্তা তার বিরুদ্ধে POI তুলবেন দুটি ক্ষেত্রে- – যদি তিনি যে বক্তা বক্তব্য রাখছেন, তার বক্তব্যের তথ্যসূত্র জানতে চান। – যিনি বক্তব্য রাখছেন তার বক্তব্যের একটি ‘নির্দিষ্ট অংশের’ এবং অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট অংশের খুব সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা জানতে চান। – বক্তব্য প্রদানকারী দলের স্ট্র্যাটেজির সাথে সম্পর্কিত কোনো উদাহরণ জানতে চাইলে।

খ. বিশেষ বিধান রহিতকরণঃ যে কোন তথ্যসূত্র জানার জন্য POI তোলা যাবে তবে অবশ্যই তা যৌক্তিকভাবে গ্রাহ্য হতে হবে। যেমন- ‘সূর্য পূর্বদিকে ওঠে- এই তথ্যটি আপনি কোথায় পেলেন এধরনের কোন POI উত্থাপিত করা যাবে না।

Point of Information উত্থাপন/তোলার নিয়ম:

– যার কাছে পয়েন্ট তুলতে হবে তিনি বক্তব্য রাখার সময় উত্থাপনকারীকে উচ্চস্বরে Point of Information উচ্চারণ করে (এক্ষেত্রে মাথায় বাম হাত রেখে ডান হাত সামনে প্রসারিত করা যায়) বক্তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতে হবে। তিনি শুধুমাত্র Point টি তোলার অনুমতি দিলেই পয়েন্ট তোলা যাবে, অন্যথায় নয়। – যার কাছে POI উত্থাপিত হয়েছে, তিনি পয়েন্টটি নিতে চাইলে বলবেন- ‘উত্থাপন করুন’, অন্যথায় ‘গ্রহণ করছি না’ বলে নিজের বক্তব্য চালিয়ে যেতে পারেন। – একবার কোনভাবে পয়েন্ট গ্রহণ করলে তা আর অস্বীকার করা যাবে না। উত্তর না দিলে বা স্থুল উত্তর দিলে নম্বর কাটা যাবে। – POI সরাসরি বক্তার কাছে তোলা হবে। এতে স্পীকারের কোন ভূমিকা নেই। তবে অনাকাঙ্খিত কোন ঘটনার ক্ষেত্রে স্পীকার হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। – POI এর প্রশ্নটি ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ করতে হবে। উত্তর দেবার সময় বক্তার মূল সময় থেকে বাদ যাবে। – POI এ শুধু একটি মাত্র প্রশ্ন করা যাবে। কোনভাবেই উত্তরের প্রেক্ষিতে কোন সম্পূরক প্রশ্ন (Counter argument) করা যাবে না। যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে তা পরবর্তীতে আরেকটি চঙও এর মাধ্যমে উত্থাপন করা যাবে। তবে তা গ্রহণ করা বা না করা বক্তার উপর নির্ভর করে। – POI গ্রহণ করার ব্যাপারটি ঐচ্ছিক তবে একজন বক্তাকে অন্তত দুটি গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। – POI উত্থাপনের নম্বর দলীয় সমঝোতায় যুক্ত হবে এবং উত্তর প্রদানের নম্বর ব্যক্তিগত নম্বরে যুক্ত হবে। – যুক্তিখন্ডন পর্বে কোন ধরনের Point of Information তোলা যাবে না।

৫.৫ Point of Order (POO) (সংসদীয় বিধি ভঙ্গ)

ক. যেসব ক্ষেত্রে তোলা যাবে – কোন বিতার্কিক নির্ধারিত সময়ের পরও বক্তব্য শেষ না করলে। ব্যাখ্যাঃ প্রত্যেক বক্তার জন্য নির্ধারিত যে সময় (৪ মিনিট বা ৫ মিনিট) সে সময় শেষ হবার পরও আরও ১৫ সেকেন্ড বরাদ্দ থাকবে তার বক্তব্য শেষ করার জন্য। শুধুমাত্র ঐ ১৫ সেকেন্ড শেষ হবার পরই POO তোলা যাবে। – বিতার্কিক যুক্তিখন্ডন পর্বে নতুন যুক্তি উত্থাপন করলে

ব্যাখ্যাঃ নতুন যুক্তি বলতে কখনোই প্রাসঙ্গিক উদাহরণকে বোঝা হয় না। উদাহরণ অবশ্যই Relevantly যুক্তিখন্ডন পর্বে দেওয়া যাবে, তবে Constructive Speech বা ‘গঠনমূলক পর্বে’ যে Strategy বা মূলনীতি দেওয়া হযেছে এবং যে যুক্তিগুলোর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে তার বাইরে যেকোনো যুক্তিকেই নতুন যুক্তি হিসেবে গ্রাহ্য করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে POO উত্থাপন করা যাবে।

– প্রধানমন্ত্রী/বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের পর মন্ত্রী/বিরোধী দলীয় উপনেতা প্রস্তাবকে ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করলে

ব্যাখ্যাঃ প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই উত্থাপিত প্রস্তাবটির আঙ্গিক বিশ্লেষণ করবেন এবং যেসব বিষয়ের সংজ্ঞা প্রদান করা আবশ্যক সেসব বিষয়ের সংজ্ঞা প্রদান করবেন। অপরদিকে বিরোধী দলীয় নেতা সংজ্ঞা গ্রহণ না করলে নতুন সংজ্ঞা দিতে পারেন কিংবা তার দলের আঙ্গিক থেকে প্রস্তাবটির মূল সুরের বিরোধিতা করতে পারেন। একবার দু’দলের নেতা যখন সংজ্ঞা বা ‘Strategy’ পরিষ্কার করে ফেলবেন, তারপর অন্য কোন বক্তা নতুন সংজ্ঞা প্রদান কিংবা অন্য কোন আঙ্গিক ব্যাখ্যা (প্রস্তাব সম্পর্কিত) করতে পারবেন না। করলে তা POO এর আওতায় আসবে। বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ সংজ্ঞা পরিবর্তন বা ‘Strategy’ র পরিবর্তন করতে না পারলেও তারা অবশ্যই বিভিন্ন যুক্তি, যুক্তিখন্ডন এবং উদাহরণ ও তত্ত্ব ও তথ্য প্রদান করতে পারবেন। বিশেষ বিধান রহিতকরণঃ বিতার্কিক পকেটে হাত রেখে বা আঙ্গুল উচিয়ে কথা বললে Technical Problem তোলার বিধান পূর্বে থাকলেও বর্তমান নীতিমালার মাধ্যমে তা রহিত করা হচ্ছে। তাছাড়া হাউজে কোন Point of Order থাকলে শুরুর পূর্বে তা জানাতে হবে। এজন্য বিতর্কের মাঝখানে Technical Problem তোলা যাবে না।

খ.Point of Order উত্থাপন/তোলার নিয়ম:

– স্পীকারের অনুমোদন সাপেক্ষে হাউজে POO উত্থাপিত হবে। – অবশ্যই উত্থাপিত Point টি ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ করতে হবে। – যার বক্তব্যের সময় Point টি তোলা হয়েছে তিনি নিজের স্বপক্ষে কথা বলার জন্য ১৫ সেকেন্ড সময় পাবেন। – পয়েন্টটি গৃহিত না হলে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ব্যবহৃত সময় বক্তার মূল বক্তব্য থেকে বাদ দেওয়া হবে। – পয়েন্ট গৃহিত হলেও সময় বাদ দেওয়া হবে। – পয়েন্ট গ্রহণ কিংবা বর্জন সংক্রান্ত স্পীকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। – Point গৃহিত হলে স্পীকার ‘পয়েন্ট গৃহিত হল’ বা ‘The point is well taken’ অন্যথায় ‘পয়েন্টটি গৃহিত হল না’ বা ‘The point is not well taken’ বলবেন। – POO গৃহিত হলে নম্বর দলীয় সমঝোতায় যুক্ত হবে।

৫.৬.Point of Privilege(POP)

ক. যেসব ক্ষেত্রে তোলা যাবে – স্পীকারের অনুমোদন সাপেক্ষে হাউজে POP উত্থাপিত হবে। – অবশ্যই উত্থাপিত Point টি ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ করতে হবে। – যার বক্তব্যের সময় Point টি তোলা হয়েছে তিনি নিজের স্বপক্ষে কথা বলার জন্য ১৫ সেকেন্ড সময় পাবেন। – পয়েন্টটি গৃহিত না হলে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ব্যবহৃত সময় বক্তার মূল বক্তব্য থেকে বাদ দেওয়া হবে। – পয়েন্ট গৃহিত হলেও সময় বাদ দেওয়া হবে। – পয়েন্ট গ্রহণ কিংবা বর্জন সংক্রান্ত স্পীকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। – Point গৃহিত হলে স্পীকার ‘পয়েন্ট গৃহিত হল’ বা ‘The point is well taken’ অন্যথায় ‘পয়েন্টটি গৃহিত হল না’ বা ‘The point is not well taken’ বলবেন। – POI গৃহিত হলে নম্বর দলীয় সমঝোতায় যুক্ত হবে।

খ. Point of Privilege উত্থাপন/তোলার নিয়ম: বক্তব্য বিপক্ষের বিতার্কিক ত্রুটিপূর্ণভাবে প্রকাশ করলে বা তার মতামত ভুলভাবে প্রকাশ বা বক্তব্য বিকৃত (Misquote) করলে। – কোন বিতার্কিক বত্তব্য পেশের সময় বিপক্ষের সদস্যদের প্রতি অবমাননাকর কথা বললে বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করলে।

গ. POP সম্পর্কিত বিশেষ বিধানঃ যে কোন শব্দ যা শ্রুতিকটু এবং অসংসদীয় বলে প্রতিপন্ন হতে পারে, সেগুলো ব্যক্তিগত এমনকি দলগত আক্রমণের নিমিত্ত ব্যবহৃত হলে POP তোলা যাবে। কিন্তু অন্য কোন ক্ষেত্রে (যেমন বক্তব্যের মাঝখানে কোন ঘটনার উল্লেখ করতে যেয়ে) POP তোলা যাবে না।

ঘ. দ্রষ্টব্যঃ POP তোলার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ লক্ষণীয় দিক এরকম যে, যাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা যার বক্তব্যকে Misquote করা হয়েছে তিনিই শুধু POP তুলতে পারবেন, অন্য কেউ নয়। যেমনঃ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য Misquote করলে তিনিই Point তুলবেন, সরকারি মন্ত্রী বা সদস্য নয়।

৫.৭ যুক্তিখন্ডন পর্বে Point or Order এবং Point of Privilege তোলা যাবে।

৫.৮ যে কোন বক্তার গঠনমূলক পর্বের বক্তব্য প্রদানের প্রথম ও শেষ মিনিট কোন পয়েন্ট তোলা যাবে না। ৫.৯ যুক্তিখন্ডন পর্বে শেষ মিনিটে কোন পয়েন্ট তোলা যাবে না।

৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদঃ কিছু বিশেষ শব্দের ব্যাখ্যা

৬.১ Truism: সরকারি দল যদি এমন কোন সংজ্ঞা দেয় যে এটি একটি ধ্রুব সত্য সেক্ষেত্রে সরকারি দলের Strategy Truism দোষে দুষ্ট হবে। অর্থাৎ কোন সর্বজন স্বীকৃত ব্যাখ্যা বা Universal truth কে যদি সরকারি দল তাদের সংজ্ঞা নির্বাচন করে তবে বিরোধী দলের কাছে Refute করার মত কোন যুক্তিই থাকে না। যেমন- The sun rises in the east – এর বিপক্ষে বলার কিছুই নেই। এটি একটি ধ্রুব সত্য। তাই এটি Truism হবে।

৬.২ Tautology: একটি বিতর্কযোগ্য বিষয়কে সরকারি দল এমনভাবে ব্যাখ্যা করে যে বিষয়টি সম্পূর্ণ একপেশে হয়ে যায় এবং বিরোধী দলের জন্য কোন পাল্টা যুক্তি থাকে না। তবে এটি Tautology হবে।

৬.৩ বিকল্প প্রস্তাবঃ Truism বা Tautology এর বিরোধী দল Parallel motion তুলতে পারেন। অর্থাৎ, সরকারি দলের সংজ্ঞা এবং স্ট্র্যাটেজী থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন মতের নিজস্ব একটি সংজ্ঞা তারা দিতে পারেন। কিন্তু একটি বিষয় অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যে একবার সরকারি দলের বক্তব্যকে Truism বা Tautology চিহ্নিত করলে বিরোধী দলের তিনজন বক্তাকেই উল্লেখ করতে নিজস্ব মতামত বা বক্তব্য বলতে হবে। কোন মতেই সরকারি দলের কোন যুক্তির কোনরূপ খন্ডন করা যাবে না বরং বারংবার এটি প্রমাণ করতে হবে যে তা Truism ও Tautology ।

সংগৃহীতঃ (বির্তকের বিভিন্ন বই ও অধিকাংশ সংগঠন আর প্রতিযোগিতায় যে নিয়ম অনুসরণ হয় তার আলোকে।)

Law Help Bangladesh

This is a common profile to post random articles form net and other sources, generally we provide original author’s information if found, but some times we might miss.
Please inform us if we missed any or if you are aggrieved on any post, we will remove or re-post it with your permission.

You may also like...

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: