“বিজেএস (BJS) কি আপনার হতেই হবে?”

শুধুমাত্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার্থীদের জন্য এই পোস্ট । বিজেএস (BJS) প্রস্তুতিকালে আমার চিন্তাধারা ; আপনি ও ভাবতে পারেন এভাবে :

আপনি যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যে বিজেএস এ আপনার হতে হবে । তবে আমার চিন্তাগুলো আপনার কাজে লাগতে পারে। যদি আপনি ভাবেন যে, বিসিএস আপনার জন্য হবে না। তবে অযথা নিচের কথা গুলো পড়ার দরকার নেই।

১. আপনার ব্যসিক নিয়ে ভাবুন :

প্রথমেই আপনাকে কিছু নেতিবাচক কথা বলে নেই ।

আপনি বিসিএস দিবেন ? টেন্স পারেন ? বাংলা ব্যাকরণ পড়লে কি নিজে নিজে বুঝতে পারেন ? সরল অংক নিজে নিজে বুঝে বুঝে করেন ? ডিকশনারি ইউজ করতে পারেন ? পৃথিবীর মানচিত্র নিয়ে ধারণা আছে ? পারিব না কবিতাটি কে লিখেছেন বলতে পারবেন ? ইংরেজিতে যেকোন টপিকে ৫ লাইন লিখতে পারেন ? ১০ টা ইংরেজি শব্দের ৬ টা কি পরিচিত মনে হয় ? ডায়বেটিক কেন হয় , জানেন ? রক্তের গ্রুপ কয়টি , জানেন ? কম্পিউটারের ভাষা কয়টি , জানেন ? ক্লাস এইট – নাইন – টেন পর্যন্ত শুধুমাত্র বোর্ড বই দিয়ে অংক , ইংরেজি , বাংলা বা আরো সব বিষয়ের ক্লাশ নিতে পারবেন ?

 এরকম কিছু ব্যসিক প্রশ্নের উত্তর যদি – হ্যাঁ হয় তবে আপনি সামনে মুভ করুন। আপনার যদি ব্যসিকই না থাকে তবে আপনার সামনে মুভ করার দরকার নাই । অনার্স , মাস্টার্স শেষ করেছে অথচ – “আমি ২ দিন যাবৎ জ্বরে ভুগছি” এই বাক্যের সঠিক ট্রান্সেলেশন পারে না এমন অনেককেই আমি চিনি । অথচ রাতদিন তারে পড়ার টেবিলে দেখি । প্লিজ মাইন্ড করবেন না। পারলে এক্কবারে শিশু ওয়ান থেকে সব কিছু রিভিশন দিয়ে আসুন এবং দেখুন পারবেন কিনা । না পারলে বাদ দেন, বিসিএস আপনার জন্য নয়। আপনার জন্য আরো হাজারো বড় বড় কাজ অপেক্ষা করছে।

২, কোচিং করবেন ? নাকি করবেন না ?

প্রথমেই বলে রাখি আমি কোন কোচিং করি নি । সো কোন কোচিং ভালো কি মন্দ তা আমি বলতে পারব না । কোচিং এ যাতয়াতের সময়টাই ( মিনিমাম ২ ঘন্টা) ভালো করে পড়লে বিসিএস হয়ে যেতে পারে। আর আমি শুধুমাত্র আপনার ভেতরে একটা জেদ বা প্রত্যয় ঢুকানোর জন্য একথাগুলো লিখছি ।

৩. কি কি বই পড়বেন ?

আপনি যদি ভাবেন যে কোন কোন বই পড়বেন এবং কোন বইয়ের কোন পৃস্ঠার কোন লেখাটা পড়বেন সেটাও আমি বলে দিব তবে আপনি ভুল ভাবছেন । এইসব বিষয়ে আমাকে ইনবক্স করার ও দরকার নেই । কারণ কোন স্পেশিফিক বই পড়ে বিসিএস ব বিজেএস এ হয় বলে আমার মনে হয় না। সো দেখা গেল যে বইয়ের নাম আমি জীবনে শুনি ও নাই সে বই থেকেও বিসিএস এ একটা উল্ল্যেখযোগ্য প্রশ্ন আসতে পারে। আমার সামনে বিসিএস সংক্রান্ত যত বই এসছে আমি তা টাচ করার চেষ্টা করেছি । সো আমার কাছে কোন কোচিং বা বই এর নাম না জানতে চাইলেই খুশি হব।

যদি আপনি ভেবে থাকেন যে আপনার সময় নষ্ট হচ্ছে আমার পোস্ট পড়ে তবে আপনি বাকিটা না পড়েই স্কিপ করতে পারেন। তারপরেও যদি আমার কথা শুনতে চান তবে শুনুন –

৪. সংখ্যা নয় নিজেকে নিয়ে ভাবুন –

আমি কখনো সংখ্যা দিয়ে হিসাব করি না। বিজেএস এর জন্য কয়জন ফরম পূরণ করল এটা আমার জন্য একবারে অপ্রয়োজনীয় একটা তথ্য । বিসিএস এ ৩ লাখ প্রিলি দিল, নাকি ৫ লাখ পিলি দিল এই সংখ্যাটা আমি শুনতেও চাই না , মনে ও রাখি না। রিটেনে বা ভাইবাতে বা কয়জন এটেন্ড করল সেটা ও আমি মনে রাখি নি। আমার চিন্তা ছিল প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ এর মত নিবে । সো আমাকে ওই ২০০ জনের মধ্যে থাকলেই চলবে। যেহেতু বিসিএস এ এক্কেবারে প্রথম হওয়ার চিন্তা আমার ছিলো না , সুতরাং অতটা প্রেশার ও আমি নেই নি । আমি আপনাকে বলব, আপনিও এই সব বড় বড় সংখ্যা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আপনার টার্গেট ছোট সংখ্যাটা নিয়ে ভাবুন।

৫. বন্ধুহীন কয়মাস –

বিজেএস পরীক্ষার আগের কয়েকমাস বলতে গেলে আমি বন্ধুহীন ছিলাম । তবে ইন্টারনেটে পড়াশুনা করা, সিলেবাস দেখা, প্রয়েজিনীয় তথ্য খোঁজা বা মডেল টেস্ট দেওয়ার জন্য আমি এখানে সরব ছিলাম। বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজন ছাড়া কয় মাস আপনাকে একা একা সাধনা করার মানসিকতা অর্জন করতে হবে।

৬, ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের ছুটিতে নিজেকে বঞ্চিত করা ।

আমি যতটি ধর্মীয় ঈদের ছুটি বাড়িতে কাটিয়েছি তার দ্বিগুন ঈদের ছুটি বা আমি কাটিয়েছি প্রায় একা একা ঢাকা শহরে। এই সময়টা আমার নিজের সাথে নিজের বোঝা পড়ার সময়। যদিও এই কয়দিনে মন তেমন ভালেঅ লাগে নি । তবু ও আমি এই কয়দিনে মনের শক্তি অর্জ ন করার জন্য মনের সাথে দিনরাত যুদ্ধ করেছি এবং ছুটিটাকে/ আনন্দটাকে উৎসর্গ করেছি বিসিএস ক্যাডার / বিজেএস এ সফল হবো এই প্রত্যয়ে। সামাজিক বিয়ে সাদীর অনুষ্ঠানে ও কম গিয়েছি । আপনি ও একটা ঈদের ছুটিতে ঢাকাতে থেকে দেখতে পারেন।

৭ . দানে দানে এক দান

আমাদের গ্রামে একটা কথা আছে – ”দানে দানে তিনদান” । অর্থাৎ – তিনবার চেষ্টা করার জন্য প্রথম থেকেই মনে মনে সিদ্ধান্ত নেওয়া । আমার কাছে এটা একটা চমৎকার ফালতু কথা। আমার কাছে দানে দানে তিনদান বলে কিছু নেই । আমার কাছে আছে – ”দানে দানে একদান”। আমার ইচ্ছাই ছিলো যে – একবার বিসিএস এবং বিজেএস দিব । হলে হবে না হলে নাই । আপনি ও চিন্তা করুন যে আগামী বিসিএসটাই আপনার জীবনের অন এন্ড অনলি আংশিক রঙিন, ফুল এন্ড ফাইনাল বিসিএস । এটাকেই আপনাকে অর্জন করতে হবে।

৮. প্রচুর মডেল টেস্ট দিন –

প্রতিদিন ১০ টি প্রশ্নের হলে ও মডেল টেস্ট দিন। ২০০ টা প্রশ্নের মডেল টেস্ট বাসায় বসে এক সিটিং এ দেওয়া অনেক কষ্টের । এজন্য আমি একটা ২০০ প্রশ্নের মডেল টেস্ট এক সপ্তাহ ধরে ও দিয়েছি। যখনই আর ভালো লাগতো না তখনই স্টপ করেছি । আপনি ও প্রতিদিন ১০ টা প্রশ্ন হলেও মডেল টেস্ট দিন এবং নিজেকে যাচাই করনি । এবং নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগীতায় নামুন । মডেল টেস্ট দেওয়ার সময় নেগেটিভ মার্কের বয় করবেন না্। সবগুলোই দাড়িয়ে দেখবেন কয়টা হয়েছে ? কত পেয়েছেন ? কতটুকু ইমপ্রুভ করা দরকার।

৯. রিটেনের বই কিনে ফেলুন ;

সময় থাকলে রিটেনের এক সেট বই কিনে ফেলুন । এবং মাঝে মাঝে পাতা উল্টান । মনের জোড় বাড়বে। কিছু কিছু টপিকের বিস্তারিত পড়ুন । এমন ও হতে পারে রিটেনের বইটাই আপনার প্রিলি এবং ভাইভার জন্য বেশি সহায়ক

১০ . Google is the Best master –

কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম – Book is the Best master But now a days it is the second master and It is the Google who s the best master. So google কে use করা শিখুন । ম্যাক্সিমাম প্রয়োজনে গুগলই আপনাকে সঠিক ধারণা দেবে। গুগল কে এড়িয়ে যাবেন না। এটা এযুগে অনেক বড় একটা সাহায্যকারী বন্ধু ।

১১. নেগেটিভ মার্কের চিন্তা মাথা থেকে পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলুন –

আমি প্রিলিতে একটা কৌশলে কাজ করি । সেটা আজ বললাম না । সুযোগ সময় হলে, প্রিলির কয়েকদিন আগে বলব । তবে এখন যেটা বলছি সেটা শুনুন , আজ থেকৈ বিসিএস বা বিজেএস এ নেগেটিভ মাকিং / মাইনাস মার্কিং আছে এটা ভুলে যান । আরামসে থাকেন । প্রিলির আগ পর্যন্ত এটা নিয়ে চিন্তাই করবেন না । মডেল টেস্ট দিবেন কিন্তু মাইনাস মার্কিং হিসেব করবেন না্।

শেষ কথা – আপনি যদি ভেবেই থাকেন , আপনার দিয়ে হবে না , তবে শুধু শুধু আমারে নক দিয়ে সময় নষ্ট করবেন না। ২ , কোচিং এবং বই এর নাম জানতে চাইবেন না। আমার বিসিএস এবং বিজেএস দেওয়ার অভিজ্ঞতাই একবার সুতরাং আমি অনেক অনভিজ্ঞ এ ব্যাপারে । আমার সাথে অভিজ্ঞদের চিন্তাভাবনা নাও মিলতে পারে। আমি ইংরেজি এই প্রবাদটাতে বিশ্বাস করি – “fools rush in where angels fear to tread” । এবং এটা অনুযায়ীই কাজ করা পছন্দ করি। কোন বিষয়ে সহমত বা দ্বিমত থাকলে জানাবেন।
ধন্যবাদ ।

 

Ibrahim Khalil Muhim

এলএলবি(সম্মান), এলএলএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৩৬তম বিসিএস (প্রশাসন) [সুপারিশপ্রাপ্ত]
১০ম বিজেএস (সহকারী জজ/জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) সুপারিশপ্রাপ্ত।

You may also like...

  • ধন্যবাদ ভাই এই সুন্দর গাইড লাইনটি আমাদের প্রদান করার জন্য।

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: