দখল, এডভার্স পজিশন ও সময়সীমা | 06

দখল, এডভার্স পজিশন ও সময়সীমা | 06
Limitation Act, 1908 Section: 26, 27, 28 | তামাদি আইন, ১৯০৮ ধারা: ২৬, ২৭, ২৮

দখলের কারণে ইজমেন্ট পাবার অধিকার (ধারা ২৬)

যদি কোন ব্যক্তি বা তার সম্পত্তি একটানা ২০ বছর ধরে কোন বাধা ছাড়া, শান্তিপূর্ণ ভাবে এবং উন্মুক্ত ভাবে ( সবাই জনে এমন) অন্য কোন ব্যক্তির জমির উপর দিয়ে আলো বাতাস ভোগ করে এবং যেখানে পথ বা পানির পথ/ নালার পথ হিসেবে ব্যবহার করে তখন ঐ ব্যক্তি ঐ অন্য ব্যক্তির ঐ ব্যবহার্য জমির উপর এক ধরনের ইজমেন্ট অধিকার লাভ করে যা অবাধ এবং অখণ্ডনীয়। অর্থাৎ আমরা যদি ধরি ক ‘য়ের একটি জমি খ, এবং ক গ’য়ের জমি ড’য়ের উপর দিয়ে প পথ ২০ বছর ধরে ব্যবহার করেছে। এখন এই প পথের উপর ক য়ের জমি খ’য়ের একটি সম্পর্ক যুক্ত হয়েছে। এখন ক যদি তার জমি খ’টিকে র’য়ের কাছেও হস্তান্তর করে তবে র’ও সেই প পথের অধিকার লাভ করবে।

সরকারি জমির ক্ষেত্রেও একই বিষয় ঘটবে তবে তার জন্য ২০ বছরের জায়গায় ৬০ বছর প্রয়োজন হবে।

উদাহরণ: ক একজন ইজমেন্ট অধিকারী যে খ য়ের জমির উপর ২০ বছর ধরে চলার পথ পেয়ে আসছে, ২১ বছর পরে সে চলা পথে জমির মালিকের দ্বারা বাধা পেলে,ক আদালতে যায় এবং প্রমাণ করে সে ২০ বছর ধরে ইজমেন্ট অধিকার পেয়ে আসছিল, তখন রায় ক’য়ের পক্ষে যাবে।

অন্য দিকে একই ঘটনায় জমির মালিক যদি প্রমাণ করে ২০ বছরের মধ্যে ক তার কাছে পথের জন্য অনুমতি চেয়েছিল তবে রায় জমির মালিকের পক্ষে যাবে।

ধারা ২৭ 
এটা একটু গল্পের মধ্যমে বোঝাই শ্রেয়, ধরুন ক একজন হিন্দু বিধবা তিনি একটি জমি ৫ বছর ধরে ব্যবহার করলেন তারপর মারা গেলেন। (লাইফ ইন্টারেস্ট: আমরা জানি হিন্দু মহিলারা সম্পত্তির মালিক হয় না, তবে জীবনভর ভোগ করার অধিকার পায়) কিন্তু এই জমির মালিক তার ছেলে খ, এখন এই জমির উপর দিয়ে গ ব্যক্তি ২০ বছর ধরে ইজমেন্ট অধিকার নিয়ে আসছে (ধরি পথের অধিকার), এখানে মালিক ছাড়া অন্য কেউ যদি কোন কোন অধিকার বলে ( লিজ হতে পারে) ৩ বছরের বেশী সময় ধরে ভোগ দখল করে তবে ঐ সময় ইজমেন্ট রাইট হবার অধিকার হতে বাদ যাবে।

এখানে গ যদি ইজমেন্টের অধিকার অবিভাজ্য বলে দাবি করে তখন সে তা আইনগত ভাবে পাবে না কারণ তার ২০ বছর অধিকার ভোগের মধ্যে ঐ বিধবার ৫ বছরও ছিল যা বাদ দিয়ে হিসেব করতে হবে।

সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্ত হওয়া। (ধারা ২৮)

এই ধারা বলে তামাদি আইনে জোরপূর্বক অবস্থানে থাকার যে সময়ের মধ্যে মামলা করার অধিকার দেওয়া আছে (১২ বছর) সেই সময়ে পর মামলা করার অধিকারের সাথে সাথে সম্পত্তির অধিকারও চলে যাবে। তবে এই এডভার্স পজিশন বা জোরপূর্বক অবস্থানের কারণে অধিকার জন্মানোর জন্য কিছু বিষয় প্রয়োজন।

১. শুধুমাত্র স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

২. শুধুমাত্র মামলা করার জন্য প্রযোজ্য হবে।
৩. প্রকৃত অবস্থায় থাকতে হবে।
৪. যথাযথ ভাবে ও বিরতিহীন ভাবে অবস্থানে থাকতে হবে।
৫. কোন ধরেনের বিনিময়ে বা আইনগত ভাবে অবস্থানে থাকলে হবে না।
৬. যার সম্পত্তি তার এই অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞাত হতে হবে।
৭. শুধুমাত্র জমির যে অংশে দখলে থাকবে সে অংশ এডভার্স পজিশন হিসেবে গণ্য হবে, পুরু সম্পত্তি নয়।
এই ধারটি, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৮ এবং তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৪২ ও ১৪৪ এর সাথে মিলিয়ে পড়তে হবে।

প্রতারণা, স্বীকারোক্তি ইত্যাদির প্রভাব | 05

Print Friendly, PDF & Email

Rayhanul Islam

The author is an original thinker; often challenges the regular rule of conduct considering various perspective on the basis of scientific reasoning to ensure the peace and prosperity of the society. He works as freelancer advocate and promote legal knowledge and human right concept to the root level. The author is also a tech enthusiast and web developer, he loves psychology as well.

You may also like...

error: Content is protected !!