তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ট্রাইব্যুনাল আইনের অস্পষ্টতায় মামলা নেওয়া হচ্ছে না

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ট্রাইব্যুনালে বিচারক নিয়োগ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আইনের মামলা পরিচালনা করছেন মহানগর দায়রা জজ। আইনে অস্পষ্টতা থাকায় ভুক্তভোগীদের মামলা নেওয়া হচ্ছে না।

আদালত সূত্র জানায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অধীনে বিচারকাজ পরিচালনার জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও এখনো বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ জন্য মহানগর দায়রা জজকে মামলার বিচারকাজ পরিচালনা করতে হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকিতে করা মামলার বিচারকাজ চলছে এই আদালতে। এ ছাড়া চার ব্লগারের বিরুদ্ধে করা দুটি মামলা বিচারের জন্য এই আদালতে পাঠানো হয়েছে, যার অভিযোগ আমলে নেওয়ার বিষয়ে শুনানির জন্য ২ জুন দিন ধার্য আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা সাইবার ট্রাইব্যুনালের জন্য অবকাঠামো ও জনবল নিয়োগে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পদক্ষেপ নেই এজলাস প্রস্তুতের বিষয়েও। কবে নাগাদ পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

বিচার প্রক্রিয়া: তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ আইনের ৭৪ ধারায় বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধিতে যা কিছুই থাকুক না কেন, এ উদ্দেশে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই আইনের অধীনে অপরাধ দায়রা আদালতের বিচার্য হবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব (আইন ও বিচার শাখা) আবু সালেহ শেখ মো. জহুরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারক নিয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন দরকার। বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদনপত্র মন্ত্রণালয় থেকে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলাগুলো জেলা ও দায়রা আদালত বিচার করবে। তাই নতুন করে অবকাঠানো ও জনবল নিয়োগের প্রয়োজন নেই। তিনি আরও বলেন, এই আইন আগে থেকেই ছিল, বর্তমান সরকারের আমলে কিছু সংশোধন আনা হয়েছে।

আইনে অস্পষ্টতা: মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শাহ আলম তালুকদার বলেন, অভিযোগ পেলে পুলিশ তদন্ত করে এই আইনের অধীনে মামলা করতে পারে। তবে একজন ভুক্তভোগী এ আইনে কীভাবে, কোথায় মামলা করবেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি। এ জন্য আদালত বা পুলিশ ভুক্তভোগীদের মামলা নিচ্ছে না। আইনের এই অস্পষ্টতার জন্য ভুক্তভোগীরা মামলা করতে পারছেন না।

গত ২২ এপ্রিল একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক এই আইনের অধীনে নালিশি মামলা করতে গেলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত তা ফিরিয়ে দেন। আদালত থেকে বলা হয়, এই আইনে এখনো ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়নি। তা ছাড়া কোনো ব্যক্তি সরাসরি মামলা করতে পারবেন কি না, তা আইনে নির্দিষ্ট করে বলা নেই।

আরেক ভুক্তভোগী সাভারের একজন সাংবাদিক এ আইনে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি। এরপর তিনি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করতে গেলে আদালত তাঁর আবেদন ফিরিয়ে দেন। ট্রাইব্যুনাল গঠনের আগে এই আইনে করা অনেক মামলার বিচারকাজ থেমে আছে। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে করা পাঁচটি নালিশি মামলা করা হলেও তার বিচার ঝুলে আছে।

প্রশান্ত কর্মকার

Print Friendly, PDF & Email

Law Help Bangladesh

This is a common profile to post random articles form net and other sources, generally we provide original author's information if found, but some times we might miss. Please inform us if we missed any or if you are aggrieved on any post, we will remove or re-post it with your permission.

You may also like...

error: Content is protected !!