সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত ছাড়া বিচারক নিয়োগ আইন সংসদে উঠছে!

সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত ছাড়াই সংসদে উঠছে সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ আইন। পাশাপাশি হরতালবিরোধী আইনের ক্ষেত্রেও আইন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত নেয়া হয়নি। পৃথক আইন দু’টি বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগেরজন্য জুডিশিয়াল কমিশন গঠনের বিধান রেখে জুডিশিয়াল কমিশন বিল-২০১২ এর প্রতিবেদনও চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিলে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের একজন, হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক একজন, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে সদস্য করে একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ওই আইন (সুপিরিয়র জুডিশিয়াল কমিশন) চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়, আইন কমিশন, বার কাউন্সিল, অ্যাটর্নি জেনারেল কারোই মতামত গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের যোগ্যতার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক, বিচারক পদে নিয়োগ লাভের জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির সংবিধানে উল্লিখিত যোগ্যতার পাশাপাশি তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বিচারক হিসেবে শপথের দিন তার বয়স অন্যূন ৪৫ বছর হতে হবে। তার শিক্ষাজীবনের সব স্তরে দ্বিতীয় বিভাগ/ শ্রেণী বা সমস্তরের গ্রেডিং নম্বর (জিপিএ) থাকতে হবে। আইন বিষয়ে তার অন্যূন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। তাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো জাতীয় বা আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল বা এর অঙ্গসংগঠনের সাথে অতীত বর্তমান সংশ্লিষ্টতা মুক্ত থাকতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের জন্য জুডিশিয়াল কমিশন গঠনের বিধান রেখে জুডিশিয়াল কমিশন বিল-২০১২ এর প্রতিবেদনও চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা নির্ধারণ করে আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্বাধীনতার ৪২ বছর পেরিয়ে গেলেও এ নিয়ে কোনো আইন হয়নি। এতে আরো বলা হয়েছে, বিচারক নিয়োগের েেত্র সততা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনা অগ্রাধিকার পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্য দিকে জনস্বার্থ সংরক্ষণ শিরোনামের বিলে মূলত রাজনৈতিক কর্মসূচি হরতাল অবরোধ ইত্যাদি কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণ করার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিলটি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যেমন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মতামত গ্রহণ করা হয়নি। এ বিলে সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী সম্প্রদায় দীর্ঘ দুই বছর বিলটি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কোনো ব্যবসায়ী সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানানো কিংবা ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মতামত নেয়া হয়নি। রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট সহিংসতার জন্য জড়িত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট দলের প্রধানকে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বিচারের বিধান রেখে বিল পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এই বিলে কর্মসূচি আহ্বানকারী ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রধানসহ সর্বোচ্চ কমিটির বিরুদ্ধে মামলার বিধান রাখা হচ্ছে। বিলে ‘হরতাল’ শব্দটি কোথাও উল্লেখ না থাকলেও এটি ‘হরতালবিরোধী’ বিল হিসেবে পরিচিত। বিল উত্থাপনকারী সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বিভিন্ন সময়ে বিলটিকে হরতালবিরোধী বলে উল্লেখ করেছেন। গত মঙ্গলবার বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিলের প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। ২০১০ সালে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো: মুজিবুল হক চুন্নু ‘জনস্বার্থ বিল-২০১০’ নামে এটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীা করে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। এই বিলে নাগরিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক জেলায় একটি করে ‘জনস্বার্থ সংরণ আদালত’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এ আদালত নাগরিকদের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টির অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দিতে পারবে বলে বলা হয়েছে।

খোকন বড়–য়া
বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম/আইআ/ইইচি ১১:৩৮ এএম

Law Help Bangladesh

This is a common profile to post random articles form net and other sources, generally we provide original author’s information if found, but some times we might miss.
Please inform us if we missed any or if you are aggrieved on any post, we will remove or re-post it with your permission.

You may also like...

error: Content is protected !!